নিজস্ব প্রতিবেদক
কথায় কথায় লাল পতাকা নিয়ে রাস্তা দখল করে বিভিন্ন ইস্যুতে যেখানে গর্জন করে বামপন্থি দলগুলো, সেই পল্টন-প্রেস ক্লাব নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসনে কাস্তে-কাঁচি মিলে সাকুল্যে ভোট পেয়েছে ৮শ’।
এর মধ্যে বাংলাদেশের সমাজবাদী দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী এ এইচ এম রফিকুজ্জমান আকন্দ কাঁচি মার্কা নিয়ে লড়ে ৯৬ ভোট পেয়ে জামানত খুইয়েছেন। আর ৭১৪ ভোট পেয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র প্রার্থী ত্রিদীপ কুমার সাহার কাস্তে।
আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে অবশ্য ভোটের মোট সংখ্যা ২ অংক পার হতো না বলেই অনেকের মত। যদিও বাম নেতাদের দাবি, হকারসহ শ্রমজীবীদের মধ্যে তাদের বিপুল জনসমর্থন রয়েছে। ভোটের অংক এ দাবিকে ভ্রুকুটি করছে।
শ্রমিকদের মধ্যে বামদের প্রভাব বিস্তর বলে দাবি করা হয়। সেই শ্রমিক অধ্যুষিত গাজীপুর-২ (টঙ্গী ও গাজীপুর সদর) আসনেও একই হাল। সেখানে কাঁচি প্রতীকের প্রার্থীকে ২৫০ ভোট পেয়ে তুষ্ট থাকতে হয়েছে। অবশ্য কাস্তে হাজারের অংক অতিক্রম করে ১৩শ’ ৯৭ ভোট পেয়েছে। এই হলো বামদের নির্বাচনি বাজারদর। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বস্তুত দেশের বাম রাজনীতির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাওয়া তো দূরে থাক, ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নামের বাম জোটের ভয়াবহ ভরাডুবি ঘটেছে। জোটের ১৪৭ প্রার্থীই উল্লেখ করার মতো ভোট টানতে ব্যর্থ হয়েছেন। বহু আসনে ভোট শ’য়ের অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেনি। যদিও জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের অন্তসারশূন্য হুঁঙ্কার ও পুরনো সতীর্থদের কল্যাণে প্রথম সারির কোন কোন সংবাদপত্রের ফলাও কভারেজ আইসিইউতে থাকা বাম রাজনীতির অক্সিজেন হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
এবারে ১০ দলীয় বাম জোট ১৪৭ আসনে লড়ে সারা দেশে ভোট পেয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজারের মতো। যা মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ। এই জোটের অধিকাংশ প্রার্থীর ভোট সংখ্যা এক হাজারের নিচে। অনেকের একশ’র নিচে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন। কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন নরসিংদী-৪ আসনে লড়ে সাকুল্যে ৮৩৯ ভোট পেয়েছেন এবং আবদুল্লাহ কাফী রতন কুমিল্লা-৫ আসনে একইভাবে ভরাডুবির মুখে পড়েছেন।
ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনে বৈপরীত্য, ভারত তোষণ, ইসলাম বিদ্বেষ, রুশ ও চীনপন্থার মতাদর্শিক বিভাজন, নেতৃত্বের অহমিকা, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, আদর্শিক রাজনীতি ত্যাগ, আওয়ামী রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি বাম দলগুলোকে অস্তিত্বের সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে রাজনীতি বিশ্লেষকদের মত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলীয়মান বাম রাজনীতির স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ার লক্ষ্য ঘোষণা করে নির্বাচনের আগে ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে বামপন্থি কয়েকটি রাজনৈতিক দল। নতুন এই জোটে পরে আরো বাম-প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক দল ও সংগঠনকে যুক্ত করা হয়। এই যুক্তফ্রন্টে দশটি বামপন্থি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্মে রূপ নেয়। জোটগতভাবে দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়।